স্যানিটারি প্যাড নিষিদ্ধ করল মিয়ানমার!

মিয়ানমারে ঋতুস্রাবকালীন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিশেষ করে স্যানিটারি প্যাড বিতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সামরিক জান্তা। তাদের দাবি, বিদ্রোহীরা এসব প্যাড আহতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছে।
বিজ্ঞাপন
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত চলছে। বিদ্রোহীদের দুর্বল করতে ‘ফোর কাটস’ নীতি অনুসরণ করছে সামরিক সরকার, যার লক্ষ্য তাদের খাদ্য, অর্থ, তথ্য ও রসদ সরবরাহ বন্ধ করা।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, স্যানিটারি প্যাডে নিষেধাজ্ঞা সেই নীতিরই অংশ। বিশেষ করে সাগাইং ও মান্দালয় সংযোগকারী সেতু দিয়ে এসব পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ‘স্কিলস ফর হিউম্যানিটি’র প্রতিষ্ঠাতা মেরেডিথ বান এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় স্যানিটারি প্যাড কার্যকর নয়, তাই এ ধরনের যুক্তি বাস্তবসম্মত নয়।
নিষেধাজ্ঞার কারণে নারীরা এখন বিকল্প হিসেবে অপরিচ্ছন্ন কাপড়, পাতা বা কাগজ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে জরায়ু ও মূত্রনালীর সংক্রমণসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এসব সমস্যার চিকিৎসাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।
অধিকারকর্মী থিনজার শুনলেই ইয়ে জানান, এই পরিস্থিতিতে নারীদের চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে কিছু প্যাড মিললেও সেগুলোর দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে—এক প্যাকেটের দাম তিন হাজার কিয়াট থেকে বেড়ে নয় হাজার কিয়াটে পৌঁছেছে, যা একজন শ্রমিকের দৈনিক আয়ের চেয়েও বেশি।
বিজ্ঞাপন
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শামিল। তাদের অভিযোগ, নারী যোদ্ধাদের মনোবল ভাঙা এবং সাধারণ নারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে উদ্বাস্তু শিবিরে থাকা লাখো নারী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এদিকে, সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেক নারী বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে পারছেন না। তবে স্থানীয় সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছে এবং একে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








