Logo

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে নতুন কমিটি, নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৩৭
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে নতুন কমিটি, নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের নতুন একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামে গঠিত এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১২ জুলাই) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে কমিটির গঠন, সদস্যদের দায়িত্ব এবং কার্যপরিধি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া, সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে। আর সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কমিটিকে মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

বিজ্ঞাপন

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকিতে যুক্ত থাকবে। এ ছাড়া, এই কমিটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করতে কাজ করবে।

একইসঙ্গে প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। বিশেষ ‘পর্ষদ’ আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশাসনিক সহায়তা এবং সচিবালয়সংক্রান্ত সব সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর। তবে প্রয়োজন হলে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনবোধে কমিটি যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD