সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা

সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভনের সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণাধীন বিভিন্ন স্টেশনের মধ্যে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। এ প্রবণতা আরও দুই দিন অব্যাহত থেকে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
এদিকে যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে, সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল এবং সারিগোয়াইন নদীর পানি কমেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানি বেড়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
রংপুর বিভাগের তিস্তার পানি বেড়েছে, তবে ধরলা ও দুধকুমারের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামে তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও আপার করতোয়া নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবুও আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমতে পারে। ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন








