জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ বছর ধরে নেই প্রধান শিক্ষক

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের ১০১ নম্বর চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যেও পাঠদান ও পাঠগ্রহণ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এরই মধ্যে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ নয় বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার পরিবেশ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবন ও সামনের সড়ক তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে খেলার মাঠসহ আশপাশের পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নোংরা পানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাঠের পানি নেমে গেলে তবেই তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠে দ্রুত মাটি ভরাট করে সামনের সড়কের সমান উচ্চতায় উন্নীত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জলাবদ্ধতা আর হবে না। এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে মানিকখালী হাজীবাড়ির আলহাজ ফজলুল হক মুকুল মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রয়োজনীয় জমি দান করেন। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
বিদ্যালয়টিতে ২০১৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মোট ২৫০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন সহকারী শিক্ষক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা হলেও বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১:৬২.৫।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে গেলে অবশিষ্ট তিনজন শিক্ষকের পক্ষে ২৫০ শিক্ষার্থীকে সামলানো এবং কার্যকরভাবে পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাজনিন সুলতানা মুন্নি বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে পাঠদান আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবকরাও দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই বিদ্যালয় নয়, বর্ষা মৌসুমে যেসব বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, সেসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষা বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা পরিদর্শন করেছি। মাঠ কীভাবে ভরাট করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাঠ ভরাট এবং প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।








