পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় পদত্যাগ করেছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেনকো। আকস্মিক এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ না করলেও মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট তার পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রস্তাব মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পাস হয়। তবে সরকারের এই হঠাৎ রদবদল নিয়ে দেশটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা অসন্তোষ ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বিদায়ী ভাষণে সভিরিদেনকো বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং জোরালো পদক্ষেপের দাবি রেখেছিল। যে বিশ্বাস ও সমর্থন আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা জানেন, আমি সবসময় ফলাফলেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছি।
দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির একটি মামলা জনসমক্ষে আসার পর এক বছর আগে সভিরিদেনকোকে মন্ত্রিসভার দায়িত্বে আনা হয়েছিল। তবে এরপর থেকে দুর্নীতি দূর বা প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে তিনি যথেষ্ট পরিমাণ দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করছে এবং এ জন্য নতুন মুখের প্রয়োজন। তবে এর বাইরে নতুন করে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনার আর কোনও কারণ স্পষ্ট করেননি তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইউক্রেনের বিরোধী দল হলোসের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের সমালোচনা ও উপহাস করে বলেন, আমাদের প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে। প্রতিদিন শুধু প্রেজেন্টেশন হয়েছে, প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং প্রতিদিন আমরা দুর্নীতির মামলায় নতুন একজন করে সন্দেহভাজন পেয়েছি।
বিজ্ঞাপন
সভিরিদেনকোর এই বিদায়ে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী পুরো সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলেছেন, দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সভিরিদেনকোর পূর্বসূরি ডেনিস শমিহাল কিংবা বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভও রয়েছেন।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করা।
বিজ্ঞাপন
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেনকো বলেন, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতি। কারণ শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার হামলার তীব্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।








