পাকিস্তানে আজাদ কাশ্মিরে সংঘর্ষ : ২ পুলিশ ও ৭ আন্দোলনকারী নিহত

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরের পুঞ্চ জেলায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাতজন জেএএকে কর্মী রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ জুলাই) আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদমুখী লংমার্চের কর্মসূচির আগের দিন মঙ্গলবার পুঞ্চ জেলার রাওয়ালকোটের মুতিয়ালমেরা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মুতিয়ালমেরা এলাকায় একটি অভিযানে যায় পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে জেএএকের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর জম্মু-কাশ্মিরের আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চল পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে দুটি অঞ্চলই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত এলাকা এবং সেখানে পৃথক আইনসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মির আইনসভার মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে জেএএকে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন ডাকা হরতাল ঘিরেও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছিল।
দাবি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সংগঠনটি। পুঞ্চের জেলা প্রশাসক সরদার ওয়াহিদ খান জানান, অভিযানের সময় জেএএকে সমর্থকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ও পাথর নিক্ষেপ করে। এতে বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হন।
বিজ্ঞাপন
আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের স্বরাষ্ট্র সচিব চৌধুরি গুফতার হুসেইন পৃথক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অভিযানের সময় প্রথমে জেএএকের কর্মীরাই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে মঙ্গলবারের ঘটনার পর জেএএকের শীর্ষ নেতা খাজা মেহরান কেন্দ্রীয় সরকারকে দাবি পূরণের জন্য আরও দুই দিনের সময় দিয়েছেন।
অন্যদিকে, চৌধুরি গুফতার হুসেইন বলেন, রাষ্ট্র কোনো ধরনের ‘ব্ল্যাকমেইল’ মেনে নেবে না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ডন








