ইরানের পার এবার লিবিয়াতেও মধ্যস্থতার ভূমিকায় পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পাশাপাশি এবার গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার সংকট সমাধানেও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সামরিক অভিযানে লিবিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি নিহত হন। এরপর দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুই অংশে বিভক্ত লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পৃথক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ লিবিয়া গঠনের পথ তৈরি করা। ইসলামাবাদের কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ওয়াশিংটন পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এ উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবও পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। জানা গেছে, গত বছর স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির ভিত্তিতেই এই সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশটির সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ, পূর্ব ও পশ্চিম লিবিয়ার কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কাতার, তুরস্ক, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে পাকিস্তানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকেই দেশটি মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ পর্যন্ত দুই পক্ষকে সমঝোতার পথে আনতে কতটা সফল হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের হাতে থাকা একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। পাশাপাশি ৩৬ মাসের জন্য একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল দায়িত্ব পালন করবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতিসংঘ-সমর্থিত পশ্চিম লিবিয়ার নেতা আব্দুলহামিদ প্রধানমন্ত্রী এবং পূর্ব লিবিয়ার লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে পারেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডিতে সাক্ষাৎ করেছেন লিবিয়ার সেনাপ্রধান সাদ্দাম হাফতার। এর কয়েক দিন আগে তিনি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এ ভূমিকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স, ডন








