Logo

অসহযোগ আন্দোলনে অচল কাশ্মির, রাজপথে আজাদীর ডাক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১৫:১৬
অসহযোগ আন্দোলনে অচল কাশ্মির, রাজপথে আজাদীর ডাক
ছবি: সংগৃহীত

টানা ২৬ দিনের অসহযোগ আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির। ৩৮ দফা দাবিতে চলা এই আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারীদের দাবি, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০। এছাড়া পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত এবং এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় কাশ্মিরে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে এখন মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং বিদ্যুতের ভর্তুকির দাবিতে ২০২৩ সালের মে মাসে আন্দোলন শুরু হয়। বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে গঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও একই ধরনের অনির্দিষ্টকালের শাটডাউনে কাশ্মিরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সরকার বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর না হওয়ায় গত ৯ জুন থেকে নতুন করে ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এর আগে ৫ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং পলাতক নেতাদের ধরতে পুরস্কারও ঘোষণা করে সরকার।

এবারের আন্দোলনে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। রাজপথে ‘পাকিস্তানি বাহিনী কাশ্মির ছাড়ো’, ‘আমরা মৌলিক অধিকার চাই’, ‘বিনামূল্যে শিক্ষা চাই’ এবং ‘জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি’—এমন নানা স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ কাশ্মিরের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। তাদের দাবি, কাশ্মিরে উৎপাদিত বিদ্যুতই স্থানীয়দের উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দাম, সরকারি অপচয় এবং ভিআইপি প্রটোকল বাতিলের দাবিও তুলেছেন তারা।

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন গতি এসেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কাশ্মিরের বাইরে থাকা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন ব্যবহার করে কেন্দ্র সরকার এ অঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। তাই ওই সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুরু থেকেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরিবহন ধর্মঘট, দোকানপাট বন্ধ, অবস্থান কর্মসূচি ও লংমার্চ পালন করা হচ্ছে। মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন শহরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমাতে সরকার খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ জরুরি পণ্যের সরবরাহ সীমিত করেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং ও এটিএম কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কারফিউ ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে অঞ্চলটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী কাশ্মিরিরাও পাকিস্তানের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করছেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক সমাবেশে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা সরদার আমান খান দাবি করেন, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির কখনোই পাকিস্তানের অংশ ছিল না। তার বক্তব্য, কাশ্মিরের চেয়ে এই অঞ্চল পাকিস্তানেরই বেশি প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপে অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD