Logo

খামেনির শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০০ দেশের প্রতিনিধি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৪৭
খামেনির শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০০ দেশের প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে দাফন স্থগিত থাকলেও যুদ্ধবিরতির পর শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, এ শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের দাবি, এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন হতে যাচ্ছে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষ প্রতিনিধিরা তেহরানে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরানে পৌঁছান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং চীনের প্রতিনিধি হিসেবে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারপারসন হে উই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও তেহরান সফর করছেন।

বিজ্ঞাপন

ভারতের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা, বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন, বিরোধী নেতা সালমান খুরশিদ এবং মেহবুবা মুফতি।

এ ছাড়া তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজও রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি আসার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) ও রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন রাখা হবে। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার শোকযাত্রা যাবে কোম শহরে। বুধবার ইরাকের নাজাফে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পর নাজাফ ও কারবালায় শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে খামেনিকে দাফন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD