Logo

জনসমক্ষে আনা হলো খামেনির কফিন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানিরা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৩৮
জনসমক্ষে আনা হলো খামেনির কফিন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানিরা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জনসমক্ষে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শোক, আবেগ এবং প্রতিশোধের আহ্বানে মুখর হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাচে ঘেরা বিশেষ কফিনে রাখা হয়েছে খামেনির মরদেহ। তার পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও পাশাপাশি রাখা হয়। এ সময় শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে বহু মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই পুরো এলাকা শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেককে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেখা যায়। তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও সকাল থেকেই দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করেন হাজারো মানুষ।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় উপস্থিত জনতার একটি অংশকে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

রাষ্ট্রীয় এই বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত রয়েছে। এছাড়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলেও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিন তেহরানে নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।

প্রাথমিকভাবে মার্চ মাসে তার দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। যুদ্ধবিরতির পর চার মাস পর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সাত দিনব্যাপী এ কর্মসূচি গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD