Logo

স্পেন বিশ্বকাপ জেতায় খুশিতে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জুলাই, ২০২৬, ১৮:৪২
স্পেন বিশ্বকাপ জেতায় খুশিতে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এই জয়ের আনন্দ শুধু স্পেনেই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

গাজায় বিদ্যুৎ সংকট ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া আবাসিক এলাকার কারণে বিভিন্ন ক্যাফেতে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শেষ বাঁশি বাজতেই সেই স্থানগুলোতে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে শিশু, তরুণসহ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন করেন।

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় তিনি এই অর্জনকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও স্পেনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাঈম বলেন, যোগ্য দল হিসেবেই স্পেন শিরোপা জিতেছে এবং এই সাফল্যে গাজার মানুষও আনন্দ ভাগাভাগি করছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিজয় মিছিল ও উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এই আনন্দ কেবল ফুটবল জয়কে ঘিরে নয়; বরং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্পেনের অবস্থানের প্রতিও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। গাজার এক নারী এক্সে লিখেছেন, ‘যারা গাজার দুঃসময়ে পাশে থেকেছে, হৃদয় স্বাভাবিকভাবেই তাদের পক্ষেই থাকে।’

পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেবরন ও নাবলুসেও স্পেনের জয়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। এদিকে ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট আলা আল-লাকতা স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালের একটি কার্টুন প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মে মাসে বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা উদযাপনের সময়ও ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করার সিদ্ধান্তও নেয়, যা নিয়ে তেল আবিবের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলা রিমাভির মতে, এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল অনেক ইসরায়েলির কাছে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, বরং রাজনৈতিক প্রতীকী লড়াইও ছিল। তার দাবি, ইসরায়েলি গণমাধ্যমের একটি অংশ প্রকাশ্যে স্পেনের পরাজয় কামনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে জয় পেয়েছে ফিলিস্তিনিদের সমর্থিত দল স্পেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD