জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ভোট আজ

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোট। এই গোপন ভোটের মাধ্যমে বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনের অবস্থান প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের শেষ দিকে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপরই নতুন মহাসচিব দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ কারণে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে জাতিসংঘ।
গুতেরেস পর্তুগালের নাগরিক এবং তিনি টানা দুই মেয়াদ, অর্থাৎ মোট ১০ বছর জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন মহাসচিব সাধারণত পাঁচ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এ পদে থাকতে পারেন।
সাত প্রার্থীকে ঘিরে ভোট
বিজ্ঞাপন
এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা আর্জেন্টিনা, চিলি, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, গায়ানা, সেনেগাল এবং উগান্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো অনানুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে প্রতিটি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করবে। এই ভোটের ফলাফল বাধ্যতামূলক না হলেও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কীভাবে হয় এই ভোট?
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের ভাষায় এই অনানুষ্ঠানিক ভোটকে ‘স্ট্র পোল’ (Straw Poll) বলা হয়। এতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিটি প্রার্থী সম্পর্কে তিন ধরনের মতামত দিতে পারেন— সমর্থন করি, সমর্থন করি না এবং কোনো মতামত নেই।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন প্রার্থী সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং কার বিরুদ্ধে আপত্তি বেশি, তা স্পষ্ট হতে শুরু করে।
একাধিক দফায় হতে পারে ভোট
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোটেই সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে না। প্রয়োজন হলে একাধিক দফায় একই ধরনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। তবে কোনো একক প্রার্থীকে নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে দ্রুত ঐকমত্য না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিষদের সদস্যদের সমর্থন পাওয়ার পরই একজন প্রার্থীর নাম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অবস্থান এ নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে। তাদের মধ্যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নেতৃত্বে কে আসছেন, তা নির্ধারণে আজকের এই অনানুষ্ঠানিক ভোটকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।








