রাশিয়ার সন্ত্রাসী তালিকায় টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ

রাশিয়ার আর্থিক নজরদারি সংস্থা ‘রসফিনমনিটরিং’ জনপ্রিয় বার্তাবিনিময়মাধ্যম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভকে ‘চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবার ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার পরিকল্পনা করতে টেলিগ্রাম ব্যবহার করছে— এমন অভিযোগ এনে দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলে মস্কো। এরপরই তার বিরুদ্ধে নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানিয়েছে, বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাসরত দুরভকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তাকে ধরতে ঠিক কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তা স্পষ্ট করেনি তারা। রুশ নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট পরিষেবাগুলোর প্রচারণার লক্ষ্যে টেলিগ্রামের ওপর চলমান বৃহত্তর ক্র্যাকডাউনের অংশ হিসেবেই দুরভের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার এই অভিযোগের জবাবে এক্সে (সাবেক টুইটার) টেলিগ্রামের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে ৪১ বছর বয়সী রুশ বংশোদ্ভূত এই বিলিয়নেয়ারের মধ্যমা প্রদর্শনের (অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি) একটি ছবি পোস্ট করা হয়। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় তাদের নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টেলিগ্রামকে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তাই অ্যাপটি ব্যবহারের ওপর আপাতত কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
২০১৪ সালে রাশিয়া ছেড়ে দুবাইয়ে টেলিগ্রামের কার্যক্রম সরিয়ে নেন পাভেল দুরভ। এবার তিনি রাশিয়ার ওই কালো তালিকায় তালেবান, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা এবং 'এলজিবিটি আন্দোলন'-এর মতো নামগুলোর পাশে যুক্ত হলেন। এই ঘোষণার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কার্যত বেআইনি হয়ে গেল এবং তাদের সাথে যুক্ত বলে বিবেচিত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের পথ সুগম হলো। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর অ্যাপ টেলিগ্রাম রাশিয়া, ইউক্রেনসহ সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি স্বয়ং ক্রেমলিন, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বহু শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাও প্রতিদিন দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজে অ্যাপটি ব্যবহার করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার নিজের নাম রাশিয়ার নজরদারি সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পাভেল দুরভ নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে ‘তাদের গুলিয়ে ফেলবেন না’ শিরোনামে এক পাশে নিজেকে ‘সন্ত্রাসীদের সহযোগী’ হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং অন্য পাশে তালেবান সদস্যদের সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের হাস্যোজ্জ্বল বৈঠকের একটি ছবির নিচে লেখা হয় ‘প্রিয় অংশীদার’। এই ব্যঙ্গাত্মক বার্তার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।
বিজ্ঞাপন
গত সপ্তাহে এক পোস্টে পাভেল দুরভ জানিয়েছিলেন, তিনি জর্জিয়ায় অবস্থান করছেন। তবে বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন








