ইসরায়েল সেনা না সরালে নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয় হামাস

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরস্ত্রীকরণে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে হামাস। চলমান সংঘাত, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি জানান, ইসরায়েল গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার আগে হামাস অস্ত্র সমর্পণের কোনো উদ্যোগ নেবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। এ ধরনের কার্যক্রম ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব একটি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গাজি হামাদ আরও বলেন, আলোচনায় যেসব শর্ত ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলো আগে ইসরায়েলকে বাস্তবায়ন করতে হবে। চুক্তির দায়িত্ব পালন না করে হামাসের কাছে নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাশা করা যৌক্তিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি চলমান আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল উল্লেখ করে বলেন, হামাস এমন একটি সমাধানের চেষ্টা করছে যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে মধ্যস্থতার ভূমিকার জন্য মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে হামাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে, সংগঠনটির দৃষ্টিতে নিরস্ত্রীকরণের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। এই শর্ত পূরণ না হলে অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না বলে তাদের অবস্থান।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই অবস্থান গাজা যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা, প্রশাসন ও পুনর্গঠন—সবকিছুই এখন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা কত দ্রুত এবং কী শর্তে অর্জিত হয় তার ওপর।








