মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে ঢুকছেন হাজারো অভিবাসী

মরক্কো উপকূল থেকে সাঁতরে এবং বিভিন্ন ধরনের ভাসমান উপকরণ ব্যবহার করে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন হাজার হাজার অভিবাসী। টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা এই প্রবাহে সীমান্ত এলাকার মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সিউতার প্রশাসনিক প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জানান, অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান ঢল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকার সিউতা সফরের কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, বহু মানুষ সাঁতরে কিংবা ফোলানো টিউব ও অন্যান্য ভাসমান সরঞ্জামের সহায়তায় সিউতার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক দিয়ে দৌড়ে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতেও দেখা গেছে কয়েকজনকে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উত্তর মরক্কোর উপকূলে অবস্থিত সিউতা বহু বছর ধরেই ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় যাত্রা করা অভিবাসীদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণীয় গন্তব্য।
বিজ্ঞাপন
চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, সিউতা বা মেলিয়ায় যাওয়ার পথে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ তোলে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ওই রায়কে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং তরুণদের সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহ দিচ্ছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মরক্কোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে। অবৈধভাবে সিউতায় প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বাস্তবে কতজন অভিবাসী সিউতায় প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্পেনের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শুধু বৃহস্পতিবারই দুই থেকে তিন হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। যদিও সীমান্তরক্ষী বাহিনী গার্দিয়া সিভিল এ সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শত শত অভিবাসী সিউতায় পৌঁছেছেন। এছাড়া গত দুই সপ্তাহে সেখানে প্রবেশকারীর সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি, যাদের বেশিরভাগই তরুণ মরক্কোর নাগরিক।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে সাগর থেকে অন্তত ৬০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার বহু গুণ বেশি মানুষে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে সিউতা এখন একদিকে মানবিক সংকট, অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ—উভয়ের মুখোমুখি।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২১ সালের মে মাসের অভিবাসী সংকটের মিল খুঁজছেন বিশ্লেষকরা। সে সময় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় আট হাজার মানুষ সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, সিউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে একমাত্র স্থলসীমান্ত হওয়ায় অঞ্চল দুটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং মরক্কোর সঙ্গে যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হলেও উন্নত জীবনের আশায় অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা থামেনি।








