কারাগারের চাপ কমাতে নতুন পথে ইতালি

কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ইতালি সরকার। নতুন আইনের আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ জন মাদক ও মদ্যপানে আসক্ত বন্দিকে কারাগারের পরিবর্তে নিজ বাড়িতে থেকেই সাজা ভোগের সুযোগ দেওয়া হবে। এ–সংক্রান্ত আইন বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৬৫ হাজার বন্দি রয়েছেন। ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কারাগার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
সাধারণত অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত জর্জিয়া মেলোনি ও তার দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'। তবে এই নতুন আইনের কারণে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে নিজ শিবিরের ডানপন্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। গত বছর মেলোনি সরকার কারাগারে আরও ১৫ হাজার অতিরিক্ত আসন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি।
দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান রবার্তো ভানাসির নেতৃত্বাধীন দল 'ফুতুরো নাজিওনালে' মেলোনির বিরুদ্ধে অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যুতে নমনীয় হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, দলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং মেলোনির জোট সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
নতুন আইনটি পার্লামেন্টে ১৫৩ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪২টি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ৮২ জন সদস্য। মেলোনির জোটের শরিক দল 'লিগ' এবং 'ফোরজা ইতালিয়া' এই বিলের পক্ষে সমর্থন দিলেও পপুলিস্ট 'ফাইভ স্টার মুভমেন্ট' এবং 'ফুতুরো নাজিওনালে' এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বামপন্থী দলগুলো নীতির দিক থেকে একমত হলেও পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের অপর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটদানে বিরত থাকে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও জানিয়েছেন, দেশটির কারাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৬৫ হাজার বন্দি রয়েছে। নতুন আইনের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মাদকাসক্ত এবং আরও ৩,৭০০ জন অ্যালকোহল আসক্ত বন্দি উপকৃত হতে পারেন।
তবে বন্দি অধিকার সংস্থা 'অ্যান্টিগোন' সরকারের এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি অনেকগুলো শর্তের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া আইনেযে পরিমাণ তহবিলের কথা বলা হয়েছে, তা দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ৬০০ জনেরও কম বন্দির পুনর্বাসন সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
লিগ দলের সংসদ সদস্য সিমোনেত্তা মাতোনে বলেন, এই আইনের লক্ষ্য শুধু কারাগারের ভিড় কমানো নয়। বরং যেসব অপরাধী মাদক বা মদ্যপানের আসক্তির কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনা। তার মতে, আসক্তিই যদি অপরাধের মূল কারণ হয়, তবে সেই সমস্যার সমাধান করলেই দীর্ঘমেয়াদে অপরাধও কমে আসবে।








