নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৫৩৮

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের এই সংখ্যার মধ্যে নেপালের রাসুয়া জেলায় নিহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ভাটির দিকে অনেক দূরের বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে উদ্ধার কার্যক্রম যত এগোচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক ঢল নামে। এতে সীমান্তসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ওই দুর্যোগে তিব্বত অংশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুর্যোগে শত শত বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, এর মধ্যে তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ।
রেডক্রসের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা আঘাত হানতে পারে—এমন খবরের কারণে জীবিত ব্যক্তিদের সন্ধানে থাকা উদ্ধারকারীরা ‘উদ্বিগ্ন ও সতর্ক’ অবস্থায় আছেন।
বিজ্ঞাপন
বেইজিং থেকে বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার জানিয়েছেন, চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে পানি বেড়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, দুর্যোগের কারণ নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়ে। এতে লহেন্দে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত প্রবল বেগে ভাটির দিকে নেমে আসে।








