Logo

মৃত্যুর মিছিল থামছে না, নেপালে নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৯
মৃত্যুর মিছিল থামছে না, নেপালে নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া এখনো তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগের আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়া মানুষের উদ্ধার এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যর্থতার বিষয়টি। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগ আঘাত হানার আগে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময়ও পাননি। এ পরিস্থিতিতে নেপাল ও চীনের মধ্যে দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কাঠমান্ডুর কর্মকর্তারা।

নেপালি প্রশাসনের দাবি, সীমান্তঘেঁষা হিমবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক গতিবিধি নিয়ে চীন থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক সময়ে মেলেনি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের জলসম্পদবিদ সৌহার্দ্র যোশি জানান, সীমান্ত অঞ্চলের হিমবাহগুলোর অস্বাভাবিক রূপান্তরের তথ্য আগাম জানার চাহিদা থাকলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধরম রাজ উপ্রেতি ব্লুমবার্গকে বলেন, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় নিজস্ব আবহাওয়া স্টেশন না থাকায় সীমান্তপারের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রয়োজনীয় সংযোগ ও তথ্য বিনিময়ের অভাবে অন্তত পাঁচ মিনিট আগেও মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব হয়নি।

অবশ্য নেপালি কর্তৃপক্ষের এ জাতীয় অভিযোগ সরাসরি খণ্ডন করেছে চীন। তেহরান ও কাঠমান্ডুস্থ চীনা দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করে, বিদ্যমান নানা প্রযুক্তিগত ও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মে মাসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর থেকে সব তথ্য সময়মতো নেপালকে জানানো হয়েছে।

বন্যার বিশালতা বিবেচনা করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইতিমধ্যে তিব্বত মালভূমিজুড়ে সব হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদের ভৌগোলিক জরিপ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ জারি করেছেন। ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে কমিউনিস্ট পার্টি থেকেও আগাম সতর্কীকরণ জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ে হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত উপত্যকার বসতিগুলোতে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই বহু এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির সৃষ্টি হয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD