বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে এবার আঘাত হানল ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সংঘটিত ওই বন্যায় এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিদিনই উদ্ধার করা হচ্ছে মরদেহ। এর মধ্যেই নতুন করে ভূমিকম্পের কম্পন আতঙ্ক বাড়িয়েছে দেশটিতে।
বিজ্ঞাপন
ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) এবং ইউরোপীয় মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজি সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত নেপালের কোনো এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভয়াবহ বন্যায় যখন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল বিপর্যস্ত এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, তখন নতুন এই ভূমিকম্প উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি ও এর শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে যাওয়ার পর নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিরং এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রাকৃতিক বাধার কারণে নদীর পানি আটকে তৈরি হওয়া ওই জলাধার ভেঙে যাওয়ার পর লাখ লাখ ঘনমিটার পানি নেমে আসে। পানির স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায়।
বন্যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বাড়িঘর ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার পর্যন্ত নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজার ৩৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন করে ভূমিকম্পের আঘাত নেপালের দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।








