হুথিদের সতর্ক করে মক্কা চুক্তির কথা স্মরণ করাল পাকিস্তান

সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে যেকোনো আগ্রাসী হামলা হলে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “আমরা চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য এবং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায়, কোনো আগ্রাসন চালানো হলে আমরা এই চুক্তির প্রতি সম্মান জানাব। এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকার সুযোগ নেই। হুথিদের বোঝা উচিত যে তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে চুক্তিটি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল বিষয় হলো, স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ বাইরের কোনো শক্তির হামলার শিকার হলে অন্য অংশীদার দেশগুলো সামরিক সক্ষমতাসহ আক্রান্ত দেশের পাশে থাকবে।
তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে পাকিস্তানের সহযোগিতা চেয়ে রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন বলে জানিয়েছেন খাজা আসিফ। একই সঙ্গে দ্রুত সংঘাতের অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “আমি এখনও জানি না যে ইসলামাদের কাছে রিয়াদ সহযোগিতা চেয়েছে কি না। আর আমরা চাই যে শিগগিরই সংঘাতের নিরসন হোক; কিন্তু যদি তা না ঘটে এবং রিয়াদ ইসলামাবাদের সহযোগিতা চায়, সেক্ষেত্রে আমরা চুক্তি মেনে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকব।”
ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। এর এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ইয়েমেনের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, বাকি অঞ্চল সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কয়েক বছর আগে এই সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পায়।
২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে গত জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে হামলার পর দুই পক্ষের সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোমবার হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের একটি কারাগারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় ১১ জন কয়েদি নিহত হন বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি জেলায় বড় ধরনের হামলা চালায় হুথিরা। ওই হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সৌদি-হুথি সংঘাতের এই নতুন উত্তেজনার মধ্যেই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি সামনে এনে হুথিদের সতর্ক করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।








