Logo

ইরানের ৫ ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬
ইরানের ৫ ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওমান উপসাগর এবং ইরানের ‘অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। হামলায় জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ‘অকেজো’ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিতে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি।

জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল আজরাকের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় খার্গ দ্বীপের কাছে ওমান উপসাগরে ইরানের ৫টি ট্যাংকার জাহাজে হামলা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। এক্সবার্তায় সেন্টকোমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত রোব ও সোমাবার দু’দিন হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আইআরজিসি এবং তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের ৫টি ট্যাংকার জাহাজকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে সেন্টকম।

যে ৫টি ট্যাংকার জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলোর নামও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। জাহাজগুলো হলো— এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া।

এগুলোর মধ্যে প্রথম চারটি জাহাজ ছিল ওমান সাগরে এবং পঞ্চমটি ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে। হামলায় জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো ক্রু নিহত বা আহত হয়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এক্সবার্তায় বলা হয়েছে, “জাহাজগুলোতে আঘাত হেনে সেগুলোকে অকেজো করে দেওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনী সেগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল।”

বিজ্ঞাপন

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে ট্যাংকার জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে আল আজরাকের মার্কিন ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হেনেছে এবং তার জবাব হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা’ করা হয়েছে।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক্সবার্তায় হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তা ও স্বীকার করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুই ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ইউএস নেভি ডিডিজি-১১৯ এবং ইউএস নেভি ডিডিজি- ৫৩’র গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দুই মিত্র দেশ কুয়েত এবং বাহরাইনের বন্দরগুলোতে হামলার হুমকিও দিয়েছে আইআরজিসি।

“আমরা কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজগুলোর সব ক্রুকে এই মর্মে সতর্কবার্তা দিচ্ছি…জাহাজ নোঙ্গর করা অবস্থায় কিংবা বন্দরে— যে অবস্থাতেই থাকুক, তারা যেন অবিলম্বে জাহাজ ত্যাগ করেন। কারণ সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে”, বলা হয়েছে আইআরজিসির বিবৃতিতে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং নতুন করে বিভিন্ন স্থাপনা ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : আলজাজিরা

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD