ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিং, দিল্লিতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। মাত্র ২৪ ঘণ্টার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ২০০ কোম্পানি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে শি জিনপিংয়ের। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ দুই দেশের পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও এসেছে।
শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের ব্যবস্থা। তিনি যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেটির ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হোটেল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী দল এবং বোমা শনাক্তকারী ইউনিট। চলছে ব্যাপক তল্লাশি। পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয় ও জৈব-রাসায়নিক হুমকি শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হোটেলসংলগ্ন ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো আগেই পরীক্ষা করা হয়েছে।
সফরের প্রায় ১০ দিন আগে শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় গাড়ি ‘হংকি’ কার্গো বিমানে করে ভারতে পাঠানো হয়। এর সঙ্গে একটি বিকল্প গাড়ি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভারতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। রোববার সকাল ১১টার দিকে ভারত মণ্ডপম থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিদেশি নিরাপত্তা দলগুলোর কিছু সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। দেশটিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগের সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। কিছু অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ভারতে প্রবেশের পর কাস্টমসের কাছে জমা দিতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অনুযায়ী এসব বিষয় দিল্লি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
শি জিনপিং সাধারণত এয়ার চায়নার বিশেষভাবে পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে যাতায়াত করেন। বিমানটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে। এতে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে চীনা প্রেসিডেন্ট সরকার ও সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। বিমানটিতে হুমকি শনাক্তকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ এবং ইলেকট্রনিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে ব্যারিকেড, চলছে যানবাহনে তল্লাশি। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত সম্ভাব্য যাত্রাপথে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া তুঘলক রোড থানায় একটি বিশেষ সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫০০ ক্যামেরার সরাসরি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








