ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব

ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার রাত থেকে রবিাবার রাত পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন হুথি গোষ্ঠীর সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী।
বিজ্ঞাপন
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় অপরাধী সৌদি শত্রুরা ইয়েমেনে ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে।’
ইয়েমেনের হুথিপন্থি টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনের সা’দা, মোনাব্বিহ জেলা এবং আল জৌফ প্রদেশে এসব বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এলাকাগুলোকে হুথি বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর জবাবেই সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনে সাম্প্রতিক এসব অভিযান পরিচালনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি আরব। হুথি বিদ্রোহীদের তথ্য অনুযায়ী রোববারের আগ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে সৌদি বিমানবাহিনী।
বিজ্ঞাপন
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন এবং রাজধানী সানা-কে হুথিদের দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র ইয়েমেনে সাম্প্রতিক বিমান অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, সৌদির বিমান অভিযানগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সহায়তার ওপরই সীমাবদ্ধ আছে; রাজধানী সানা-সহ হুথিদের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোকে এখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে পরের বছর, ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়।
রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অংশ সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছর আগে এই সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
সূত্র : এএফপি








