Logo

বিশ্ববাজারে চীনের মুরগির মাংস ও দুগ্ধপণ্যের রপ্তানি বাড়ছে

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫১
বিশ্ববাজারে চীনের মুরগির মাংস ও দুগ্ধপণ্যের রপ্তানি বাড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে মুরগির মাংস ও দুগ্ধপণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে চীন। কম দামে বিপুল পরিমাণ প্রাণিজ প্রোটিন সরবরাহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে দেশটির উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে ভোক্তারা তুলনামূলক সস্তায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পাওয়ার সুযোগ পেলেও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উৎপাদকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার চাপ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

চীনের খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান উইনটপ ফুডের মহাব্যবস্থাপক ডাং ইয়াংইয়াংয়ের ব্যস্ততাই এই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ। সম্প্রতি তিনি ঘানা, ইরাক, জর্ডান, রাশিয়া ও সেনেগালের ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব দেশের ক্রেতাদের আগ্রহ চীনের মুরগির মাংসের প্রতি।

উইনটপ ফুড বছরে প্রায় ছয় কোটি মুরগি প্রক্রিয়াজাত করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০টিরও বেশি দেশে মুরগির বুকের মাংস, নাগেট, মাংসের বল ও ডাম্পলিংসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিক্রি করে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট মুনাফার অর্ধেক এসেছে রপ্তানি থেকে। সেই আয় কাজে লাগিয়ে আরও ৩৩ একর জমিতে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে তারা।

চীনের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এবং দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ফলে মাংস ও প্রোটিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাড়তি পণ্য বিদেশে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

চীনের এই রপ্তানি প্রবণতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। ইস্পাত, সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো শিল্পের পর খাদ্যপণ্যের বাজারেও কম দামে বিপুল পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ তৈরি করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগও বাড়ছে। জুলাইয়ে ইউরোপীয় কমিশন চীন থেকে আমদানি করা পেকিং হাঁসের মাংস নিয়ে অন্যায্য বাণিজ্যের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় উৎপাদকদের অভিযোগ, চীনা সরকারের ভর্তুকির কারণে তাঁরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। গত মাসে চীনা মটরশুঁটির প্রোটিন আমদানির ওপর ৪১ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে কমিশন। তবে চীনা মুরগির মাংসের ওপর এখনো এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের এক মুখপাত্র।

কৃষি ও খাদ্যপণ্য খাতে চীন এখনো আমদানির তুলনায় কম রপ্তানি করে। গত বছর এ খাতে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। তবে ঘাটতির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিকারক চীন গত বছর মুরগির মাংসের ক্ষেত্রেও নিট রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ওই বছর দেশটি ২৬০ কোটি ডলারের মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করে, যা ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, চলতি বছর চীনের দুগ্ধপণ্য রপ্তানি ৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিন বছরের মধ্যে এ রপ্তানির পরিমাণও দ্বিগুণ হওয়ার পথে।

বিজ্ঞাপন

চীনের রপ্তানি বাড়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পাচ্ছেন। তবে ইউরোপ, থাইল্যান্ড ও ব্রাজিলের মতো দেশের উৎপাদকদের জন্য এটি নতুন প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বেইজিংভিত্তিক কৃষিবাণিজ্য পরামর্শক মাইকেল বোডিংটন বলেন, চীন আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারক হয়ে ওঠায় বৈশ্বিক মাংসের বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটছে। আগে এশিয়ার বাজারে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংসের চালান আসত। এখন তুলনামূলক কম দামে চীনা পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার নতুন কৌশল খুঁজতে হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD