Logo

স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিমি পাড়ি, গিয়ে জানলেন এআইয়ের তৈরি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:৩৪
স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিমি পাড়ি, গিয়ে জানলেন এআইয়ের তৈরি
ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নের নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী এক ব্রাজিলীয় নাগরিক। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই নারী বাস্তবে নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্যের রাজমিস্ত্রি এদিমার মার্তিন্স স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে তিনি প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামে একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান। ওই নারী ‘জেসিকা ফাজেনদেইরা’ নামেও পরিচিত ছিলেন।

অ্যাকাউন্টটিতে তিন লাখের বেশি অনুসারী ছিল। সেখানে একটি খামারে এক নারীর গ্রামীণ জীবনযাপনের বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করা হতো। ভিডিওগুলোতে পুরুষদের তাঁর সঙ্গে এসে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হতো। পাশাপাশি আবাসন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতো।

মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন এদিমার। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই নারী তাঁকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই কাল্পনিক চরিত্র তাঁকে আর্থিক সহায়তা এবং নিজের খামারে থাকার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন এদিমার। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে যাওয়ার খরচ জোগাতে নিজের সব মালামাল বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণ করে ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।

কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাঁর স্বপ্ন ভেঙে যায়। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ছবিগুলো দেখিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছে ওই নারীর খোঁজ করেন এদিমার। কেউ তাঁকে চিনতে না পারায় শেষ পর্যন্ত একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যান তিনি। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বপ্নের নারী আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

এদিমার বলেন, “এই ঘটনা আমার জীবনে কেবল দুঃখ, হতাশা আর অবসাদই বয়ে এনেছে। অনেকেই একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে চায়, আমিও তাই চেয়েছিলাম।”

বিজ্ঞাপন

এদিকে অ্যাকাউন্টটির পেছনে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, নারী চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি। তবে এদিমার মার্তিন্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

কাল্পনিক নারী চরিত্রটির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমি এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করতে এসেছি: আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল থেকে আমি কখনও কারও সঙ্গে কথা বলিনি। বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিউ বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। আমি কখনও সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, বেলো হরিজন্তে কাউকে নিয়ে আসার তো প্রশ্নই ওঠে না। যা ঘটছে তা দেখে আমি নিজেই অবাক।”

ভ্রমণের পেছনে সব টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় বেলো হরিজন্তে শহরে আটকা পড়েন এদিমার। পরে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চান তিনি। সমাজকর্মীরা তাঁকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।

বিজ্ঞাপন

এত বড় হতাশার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি এদিমার। বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। ভবিষ্যতে আবারও বেলো হরিজন্তে ফিরে গিয়ে স্থায়ীভাবে ঘর বাঁধার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এদিমার বলেন, “আমি তাকে পাইনি, তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব এবং আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম সেখানেই পাব, আর আমি সেখানে আবার যাব।”

দ্য সানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় মাসেরও কম সময়ে এদিমার তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি এআই দিয়ে তৈরি ওই কাল্পনিক নারীর সঙ্গে দেখা করার আশায় বেলো হরিজন্তে গিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD