Logo

পূজা দেখতে বিহার থেকে কলকাতায়, ভিড়ে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২২
পূজা দেখতে বিহার থেকে কলকাতায়, ভিড়ে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের
ছবি: সংগৃহীত

ছেলের আবদার পূরণ করতে বিহারের মুজাফফরপুর থেকে কলকাতায় দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন অভিষেক কুমার শ্রীবাস্তব। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী নিভা কুমারী ও নয় বছরের ছেলে আয়ুষ কুমার শ্রীবাস্তব। তবে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে যাওয়া সেই সফর শেষ হয়েছে মর্মান্তিক ঘটনায়। কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপূজামণ্ডপে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অভিষেক ও তার ছেলে আয়ুষ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিভা। আহত হয়েছেন পরিবারের স্বজন রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তবও।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কলকাতার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেখতে বেরিয়েছিলেন অভিষেক। তাদের সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিবি ঘাট রোডের বাসিন্দা রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তব।

চোরবাগান এলাকায় পৌঁছানোর পর বৃষ্টি শুরু হলে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তারা চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপে আশ্রয় নেন। সেখানেই ঘটে দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ পরিণত হয় আতঙ্কে। শেষ পর্যন্ত বাবা ও ছেলেকে হারাতে হয় পরিবারটিকে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিষেকের পরিবারের স্বজন রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তবের ছোট ভাই মুকেশ কুমার শ্রীবাস্তব জানান, বিহারের মুজাফফরপুর থেকে তার ভাইয়ের স্ত্রীর বোন, তার স্বামী ও ছেলে কলকাতায় পূজা দেখতে এসেছিলেন। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা পূজামণ্ডপ ঘুরতে বের হন। পরে চোরবাগানে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

মুকেশ জানান, অভিষেককে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার ছেলে আয়ুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটি হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আয়ুষও মারা গেছে।

একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে হারানোর ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিষেকের স্ত্রী নিভা কুমারী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তবের বুকের হাড় ভেঙে গেছে। তাকেও বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় পূজামণ্ডপের ব্যবস্থাপনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার পর এরই মধ্যে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার সকালে রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তবের বাড়িতে যায় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি দল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন পুলিশ সদস্যরা।

দুর্ঘটনার কারণ এবং পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর চোরবাগান পূজামণ্ডপের আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, সভা ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটিটি দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কলকাতায় দুর্গাপূজার সময় অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০১৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে ৮৮ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা দেখতে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। তখন পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অন্তত ১১ জন আহত হন। পরে নিরাপত্তার কারণে ওই পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

২০২১ সালে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপূজাতেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার পর পূজা বন্ধ করতে হয়েছিল।

চোরবাগানের এবারের দুর্ঘটনা আবারও দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD