Logo

কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, গ্রেফতার ৭

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৪
কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, গ্রেফতার ৭
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজক কমিটির কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে চোরবাগান দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটানোর’ অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছে পুলিশ। হিন্দুদের ১০ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সপ্তম দিনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চোরবাগানের এই পূজামণ্ডপে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান দুর্গাপূজা কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ও সহসভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়া বাঁশের কাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখার্জি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মাইকে ঘোষণা থেকে হুড়োহুড়ির সন্দেহ

বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চোরবাগানের দুর্গাপূজার আয়োজকদের মাইকে দেওয়া একটি ঘোষণা থেকে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূজা আয়োজকদের মাইকে দেওয়া ঘোষণার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে ঠিক কী ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মণ্ডপ এলাকায় বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের বাঁশি বাজানোর কারণে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

‘থিমের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বেশি’

দুর্ঘটনার পর থিমভিত্তিক দুর্গাপূজার আয়োজকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পথ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, থিমের নামে অনেক পূজামণ্ডপে আলো কম রাখা হয়। এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। তার ভাষায়, থিমের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বেশি।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনাস্থল তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিভাগ, পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং দমকল বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরসূচিসহ সব সরকারি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছানোর পর রোববার তাঁর কয়েকটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের কথা ছিল।

কলকাতার একাধিক বড় পূজামণ্ডপে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর কলকাতার একাধিক বড় দুর্গাপূজার আয়োজককে সাময়িকভাবে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখতে বলেছে প্রশাসন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের নির্দেশে সাময়িকভাবে প্রবেশ বন্ধ রাখা পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘তালা প্রত্যয়’, ‘আলিপুর সর্বজনীন’, ‘চেতলা অগ্রণী’ ও ‘বালিগঞ্জ সর্বজনীন’। প্রতিবছর এসব মণ্ডপে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়।

কলকাতা শহরে এবার প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর পূজামণ্ডপগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD