দুর্গাপূজায় রেলযাত্রা নিরাপদ রাখতে স্টেশনে বাড়ছে নিরাপত্তা

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, টিকিটবিহীন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন এবং বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধ ও স্টেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি পদক্ষেপ।
বিজ্ঞাপন
গত ১২ অক্টোবর রেল ভবনে রেলসচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনসহ রেলওয়ে ও রেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ কাজে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)সহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। স্টেশন এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যও বাড়ানো হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ১৯ ও ২০ অক্টোবর কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে ডগ স্কোয়াডসহ বিশেষ টহল পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমলাপুর স্টেশন ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ডিএমপি ও আরএনবির সমন্বয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ বেষ্টনী
উৎসবের সময়ে স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় ও অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনের প্রবেশপথে জিগজ্যাগ বেষ্টনী তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মূল প্রবেশদ্বারের বাইরে থাকা অরক্ষিত পথগুলোতেও অস্থায়ী বেষ্টনী বসানো হবে।
টিকিটধারী যাত্রীদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ নিশ্চিত করতে বাড়তি জনবল দিয়ে টিকিট পরীক্ষা করা হবে। ট্রেনের ছাদে ওঠা বন্ধে স্টেশনে মই বা এ ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের শিফট পরিবর্তনের সময়ও সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণকারী দল যথাযথভাবে দায়িত্ব বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত আগের দল কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।
বাড়তি কোচ যুক্ত হচ্ছে, বাতিল হচ্ছে পাঁচ ট্রেনের সাপ্তাহিক বিরতি
বাড়তি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে ২৩টি মিটারগেজ ও ছয়টি ব্রডগেজ কোচের পাশাপাশি আটটি অতিরিক্ত কোচ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে পাঁচটি ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন প্রত্যাহার করা হবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে আরও বেশি ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।
বিজ্ঞাপন
চলবে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন
দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
- ট্যুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ২: ঢাকা–কক্সবাজার–ঢাকা রুটে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর চলবে।
বিজ্ঞাপন
- ঢাকা স্পেশাল-৩: চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি ২০ অক্টোবর চলবে।
- চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনটি ২৪ অক্টোবর চলবে।
পূজামণ্ডপ ও রেলপথে বাড়তি নজরদারি
বিজ্ঞাপন
উৎসব চলাকালে রেললাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেল কর্তৃপক্ষ, পূজা উদযাপন কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে নজরদারি করবে। পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
যাত্রীসেবার মান বজায় রাখতে ট্রেনের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজার নবমী ও দশমীতে সম্ভাব্য বাড়তি জনসমাগম বিবেচনায় ১৯ ও ২০ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ভিজিল্যান্স এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান দল গঠন করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রেলসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম সভায় বলেন, ‘এবারের দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির সঙ্গে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণপিপাসু সাধারণ যাত্রীরা বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি যাত্রীচাপ পরিলক্ষিত হবে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, রেলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘরমুখী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষকে সুষ্ঠু রেলসেবার মাধ্যমে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সভায় গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের চলাচলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা বাড়ানো হবে। রেল ভবনের নির্দেশনা অনুসারে প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, স্টেশনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করাই রেলওয়ের বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।








