Logo

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ বাড়ছে, বিপাকে ইউক্রেন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ বাড়ছে, বিপাকে ইউক্রেন
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা নিয়ে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরে ছাড় এবং দেশটি থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ইউক্রেনের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জ্বালানির উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেছেন তিনি।

জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় মস্কোর জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি মেনে নেবে না কিয়েভ। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপের কথা থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির মতে, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাময়িকভাবে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে সমঝোতার কথা জানান ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করলে বা সীমিত করলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শনাক্ত করা এবং সেগুলো প্রতিরোধ করা ইউক্রেনের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মার্কিন প্রযুক্তির ওপর ইউক্রেনের নির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে এসেছে। দেশটির সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড সেবায় বিঘ্ন ঘটার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরে সেবাটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে চায় কিয়েভ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ফ্রিডের মতে, ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ইউক্রেনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেলেনস্কি ও পুতিন—উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখবেন। তাঁর লক্ষ্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD