কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল চার সেনার

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। শনিবার বিকেলে ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় ঘাসে আগুন লাগার পর প্রবল ঝোড়ো বাতাসের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার কর্মকর্তারা হতাহতের এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে আলবার্টার ওয়েনরাইটে অবস্থিত কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটের একটি প্রশিক্ষণ এলাকায়। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর ঘণ্টায় প্রায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। এতে আগুন দ্রুত বিস্তৃত হয়। মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত চার সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আগুন লাগার সময় ওই এলাকায় ৮৫ জন সেনাসদস্য জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল লাটভিয়ায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নেওয়া। বর্তমানে লাটভিয়ায় কানাডার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন, পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ
এ ঘটনায় নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশজুড়ে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, আহত সেনাসদস্যদের অনেকেরই কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত বিশেষায়িত নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। আহতদের এডমন্টন, ওয়েনরাইট, ক্যালগারি ও রেড ডিয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওই এলাকার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে, এমন সম্ভাবনাও তাঁরা নাকচ করেছেন।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কী কারণে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








