Logo

বিক্ষোভ-সহিংসতা দমনে মিলান শহরে ৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে ইতালি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১১
বিক্ষোভ-সহিংসতা দমনে মিলান শহরে ৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে ইতালি
ছবি: সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় ইতালির মিলান শহরে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারীদের শাস্তির পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত কিশোর-তরুণদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতার আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, “প্রতিবাদ করা একটি অধিকার, কিন্তু শহর ধ্বংস করা নয়। সহিংসতা মোকাবিলা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছি।”

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ার পাশাপাশি বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আবাসন ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসেবা খাতে ক্রমবর্ধমান চাপকে কেন্দ্র করে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।

বিজ্ঞাপন

মিলানে বিক্ষোভ ঘিরে ভাঙচুর ও লুটপাট

মিলানে শনিবার ও রোববারের বিক্ষোভ চলাকালে মুখোশধারী কয়েকজন তরুণ ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেন। বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি জানালার কাচও ভাঙা হয়। শহরের বিখ্যাত ক্যাথেড্রাল এলাকা এবং বিলাসবহুল পণ্য বিক্রির কেন্দ্রগুলোতে এসব ঘটনার প্রভাব পড়ে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২৭১ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকানেও সতর্কতা

আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মিলানের ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টের বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো ব্র্যান্ড তাদের দোকানের শোকেস থেকে পণ্য সরিয়ে নিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের হামলা ও ভাঙচুরের লক্ষ্যবস্তু হওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রেতা ডেক্যাথলন ও আর্কটেরিক্স এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ভোডাফোন।

বিজ্ঞাপন

সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ইতালি সরকার

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, রাষ্ট্রের ওপর হওয়া হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

তাজানি বলেন, “রাষ্ট্রের ওপর হওয়া এসব হামলার কঠোর জবাব দেবে সরকার; এর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা দমনের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা তরুণদের লক্ষ্য করে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। বিশেষ করে ‘মারানজা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীকে ঘিরে পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। শব্দটি সাধারণত প্রান্তিক এলাকার তরুণদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বোঝাতে অপমানসূচকভাবে ব্যবহার করা হয়।

ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও নিরাপত্তা জোরদার

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সেও সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে দেশটিতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দোকানপাটে লুটপাট, টাউন হলে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভ এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালির সরকার একদিকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েন ও কঠোর আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিক্ষোভের আড়ালে সংঘটিত সহিংসতা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD