মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনে নতুন উদ্যোগ নিল তুরস্ক

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই সমঝোতা অনুমোদনের জন্য দেশটির সংসদে জমা দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিজ্ঞাপন
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ১৬ ধারার এই চুক্তিতে সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাঠামো রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তির প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়লে তা মোকাবিলায় অন্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
দ্বিতীয় ধারায় আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর অন্য কোনো দেশ বা সামরিক জোট সশস্ত্র হামলা চালালে বাকি দুই দেশ আক্রান্ত রাষ্ট্রকে দ্রুত সহায়তা দেবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য নিজেদের হাতে থাকা বিভিন্ন উপায় ও সম্পদ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই বিধানকে সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির পঞ্চম ধারার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ন্যাটোর ওই ধারায় একজন সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে মক্কা চুক্তিতে সহযোগিতার ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি তিন দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি, সামরিক সক্ষমতা এবং উপলব্ধ সম্পদ বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রয়োজনীয় সহায়তা নির্ধারণ করবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ সক্রিয় করা এবং সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিন দেশ একমত হয়েছিল। হুথি গোষ্ঠী ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
চুক্তির তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ ধারায় প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, রসদ সহায়তা এবং যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রতিরক্ষা কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে অন্য দেশকে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
বিজ্ঞাপন
চুক্তিটির নির্ধারিত মেয়াদ ১০ বছর। খসড়ায় মেয়াদ শেষে যেকোনো সদস্য দেশের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
চুক্তিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে তুরস্কের সংসদীয় প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্ষমতাসীন জোটের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও চুক্তির বিভিন্ন ধারা নিয়ে সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক হতে পারে। বিরোধী দলগুলোও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের সংসদের স্পিকার চুক্তিটি পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠাবেন। শুক্রবারের মধ্যেই কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কমিটিতে পাঠানোর পর চুক্তির বিস্তারিত বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে।
তবে সংসদে চুক্তি অনুমোদিত হলেই তুরস্কের সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবে মোতায়েন হবে, এমন নয়। সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে পৃথক আইনি ও আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তুরস্কের প্রেসিডেন্সির যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, এই কৌশলগত অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ সক্ষমতা জোরদার করা এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
তার মতে, চুক্তিটি তিন দেশের কৌশলগত সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
চুক্তিটি অনুমোদিত হলে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রয়োগ, সামরিক সহায়তার ধরন এবং সেনা মোতায়েনের মতো সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও তিন দেশের পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।








