প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাচ্ছে রাশিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। রুশ সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে ডিজেল রপ্তানিতে স্বেচ্ছায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মস্কো। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতার পর গত ৯ অক্টোবর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
বুধবার নোভাক জানান, প্রথম চালানে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাঠানো হবে। জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে কোন বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা করবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নোভাক বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়ার সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্পের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। তবে রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে প্রথম চালানের পরিমাণ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বৈঠকে ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
পুতিনও দুই দেশের সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, চুক্তির পর ডিজেলের দাম কমেছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এই জ্বালানি সমঝোতার কারণে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








