Logo

মক্কা চুক্তি কার্যকর, সৌদির হয়ে সরাসরি লড়বে তুরস্ক-পাকিস্তান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৯
মক্কা চুক্তি কার্যকর, সৌদির হয়ে সরাসরি লড়বে তুরস্ক-পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রথমবারের মতো কার্যকর হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

চুক্তির আওতায় ঠিক কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে কিংবা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে, তা যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়নি। তবে তিন দেশ বলেছে, অনুমোদিত ব্যবস্থা ও নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে পাঠানো হবে।

আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তিতে একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বর্তমানে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক পাল্টা অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। ওই অভিযানে হুথিদের কাছ থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর বিপরীতে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এসব দাবির কিছু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা এবং মক্কা-মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সৌদি আরবে সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন সময় সৌদি ভূখণ্ডে সামরিক সদস্য ও বিমান মোতায়েন করেছে। তবে এবারের মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

তুরস্কের ক্ষেত্রেও সরাসরি যুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদনসহ নিজস্ব আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দুই দেশের সামরিক সহায়তা সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন ও অন্যান্য সহায়ক সক্ষমতার মধ্যে সীমিত থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের জন্য বড় প্রশ্ন হলো সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন করতে গিয়ে তারা ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না। পাকিস্তান এর আগে ইয়েমেন সংঘাতে সরাসরি অংশ না নেওয়ার অবস্থান নিয়েছিল।

নতুন এই সামরিক সমীকরণ ইরানও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়লে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত আরও আঞ্চলিক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে আপাতত মক্কা চুক্তির ঘোষিত পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দু সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা। সরাসরি ইয়েমেনে গিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে তুরস্ক ও পাকিস্তানের বাহিনী যুদ্ধ করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD