ইয়েমেনে চারটি কার্গো বিমানবোঝাই করে অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীকে সহায়তা দিতে পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে করে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত মাসে পাঠানো এসব বিমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ছিল বলে পাকিস্তানি এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরঞ্জামগুলো ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এডেনে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। রয়টার্স জানিয়েছে, কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই রিয়াদ এ ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য অভিযানে ইয়েমেনের ১ লাখের বেশি সরকারি বাহিনী সৌদি বিমান হামলার সহায়তা পেতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকা ও বাব আল-মান্দাবের কাছে কয়েকটি দ্বীপে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইয়েমেন পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। গত আগস্টে তিন দেশ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ওই চুক্তিতে এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
তবে ইয়েমেনের বাইরে সরাসরি সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে চুক্তির আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সমন্বয় আরও বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাতকে ঘিরে আঞ্চলিক সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।








