Logo

ইয়েমেনে প্রতি চার পরিবারের তিনটিই অনাহারে: জাতিসংঘ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৫১
ইয়েমেনে প্রতি চার পরিবারের তিনটিই অনাহারে: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় দেশটির খাদ্য পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। চলমান লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি বাজারব্যবস্থা ব্যাহত এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকটও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ও সহজে পৌঁছানো সম্ভব এমন এলাকায় প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবার তাদের মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এসব সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আনুমানিক ১ কোটি মানুষ বসবাস করেন। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেকেই এর আগে সংঘাতের কারণে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের যেসব এলাকায় সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে, সেখানে প্রায় চারটির মধ্যে তিনটি পরিবারই বর্তমানে তাদের মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারছে না। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকট আরও বাড়তে পারে।

খাদ্য সরবরাহের ওপর এই চাপের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। সংঘাতের কারণে বাজারব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ কমছে এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে নতুন এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইয়েমেন খাদ্যের জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ খাদ্য আমদানি করতে হয়। ফলে সংঘাতের কারণে বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের খাদ্য পাওয়ার সক্ষমতায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত আবারও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, নতুন করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অন্যতম প্রধান প্রয়োজন এখন খাদ্য।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের সংস্থাটির হিসাবে, ইয়েমেনজুড়ে বর্তমানে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনও বাড়বে। সংস্থাটি অতিরিক্ত ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এ কার্যক্রম বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে জুনে প্রকাশিত জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির এক বিশ্লেষণেও ইয়েমেনের সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছিল। ওই বিশ্লেষণে চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি, বাস্তুচ্যুতি, বাজারব্যবস্থায় অস্থিরতা এবং মানবিক সহায়তায় ঘাটতির কারণে ইয়েমেনে ক্ষুধা সংকট দ্রুত তীব্র হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। সংস্থাটির ভাষ্য, সংঘাত অব্যাহত থাকলে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD