হুথিদের বড় হামলা রুখে দেওয়ার দাবি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাহিনীটি জানায়, বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাহিনীর দাবি, হামলার প্রস্তুতির জন্য হুথিরা যে সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করেছিল, সেগুলোর সবই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে অভিযানের স্থান, হতাহত বা ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব তাইজের হাইফান জেলা ও আল-আকবুস এলাকায় ছয়টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হুথি যোদ্ধাদের অবস্থান।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুথিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হয় এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে সংঘাতের গুরুত্বও বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
মোখা দখলের পর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের আরও কয়েকটি এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালায় হুথিরা। এর জবাবে সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টেও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর পাশাপাশি সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে হুথিদের সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাবে সৌদি বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বও হুথিদের কর্মকাণ্ডকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সংঘাত বাড়ায় ইয়েমেনে মানবিক পরিস্থিতিও আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের হিসাবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।








