Logo

চাম্পির আঘাতে লণ্ডভণ্ড তাইওয়ান-জাপান, বন্ধ শত শত ফ্লাইট

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৪
চাম্পির আঘাতে লণ্ডভণ্ড তাইওয়ান-জাপান, বন্ধ শত শত ফ্লাইট
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পির আঘাতে পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনে ঝড়ের প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাইওয়ানের লিউকিউ দ্বীপে ঝড়ের পানিতে ভেসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৪ জন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটিতে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জরুরি ব্রিফিংয়ে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতা অবলম্বন এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় চাম্পির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ মাইল বা ২৯৮ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল। এই গতিবেগ পাঁচ মাত্রার হারিকেনের কাছাকাছি। ঝড়টির প্রভাবে তাইওয়ান ও জাপানে বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিবিসির সরাসরি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঝড়ের কারণে তাইওয়ান ও জাপানে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাইওয়ানের ২২টি কাউন্টি ও শহরের প্রায় সবকটিতে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশটির বিশ্বখ্যাত স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার তাইওয়ানে সব ধরনের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এছাড়া ট্রেনের সময়সূচি স্থগিত এবং বেশ কিছু মহাসড়ক বন্ধ করে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জাপানে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইন্সসহ চার প্রধান বিমান সংস্থার ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অন্তত ১১ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। ওকিনাওয়া অঞ্চলে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি পরিবার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি জনগণকে ঝোড়ো হাওয়া, পাহাড় ধস ও বন্যা সম্পর্কে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় বাতানেস দ্বীপেও ঝড়টি প্রচণ্ড বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। চীনের আবহাওয়া সংস্থা চাম্পির সতর্কতায় নীল সংকেত জারি করেছে এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে কমলা সংকেত দেওয়া হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবের কারণে অঞ্চলটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানান।

বিজ্ঞাপন

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই এবং সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান লু কুও-চেন জনগণকে সমুদ্র সৈকত ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছেন। দেশটির জাতীয় ফায়ার এজেন্সির চিয়াং চি-চিয়াং সতর্ক করে জানিয়েছেন, হুয়ালিয়েনের ওয়ানলি ক্রিক ভূমিধস বাঁধে গচ্ছিত ৫০ লাখ মেট্রিক টন পানির ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD