Logo

এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানির অভিজাত বাহিনী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:১৯
এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানির অভিজাত বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানির অভিজাত স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ড (কেএসকে)। ইউনিটটির কমান্ডার এ কথা জানিয়েছেন। ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে মস্কো ও ন্যাটোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। জার্মান কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সরাসরি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের এসএএস কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বেরেটের সমকক্ষ হিসেবে বিবেচিত এই অত্যন্ত গোপনীয় ইউনিটটির ঘাঁটি দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানিতে। সেখানে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে তারা। ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি, ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতায় সজ্জিত রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে, এমনকি প্রচণ্ড শীতের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়, সে অনুযায়ী নিজেদের প্রশিক্ষণ সমন্বয় করছেন কমান্ডোরা।

জার্মান পত্রিকা ‘বিল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেএসকে-র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রেয়াস ক্যুহনে বলেন, ‘আমরা খুব নির্দিষ্টভাবেই শত্রু হিসেবে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে নিজেদের অভিমুখ নির্ধারণ করছি।’

তিনি আরও জানান, যুদ্ধ শুরু হলে তাঁর সৈন্যদের দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা শেষ নাও থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রথাগত জার্মান বাহিনী মূল লড়াইয়ে নামার আগেই কেএসকে তাদের মিশন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে বলে জানান ক্যুহনে। বিল্ডকে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতিতে লিথুয়ানিয়ায় অবস্থানরত ৪৫তম আর্মার্ড ব্রিগেড যখন তাদের ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন চালু করবে, আমরা চাই তার আগেই যেন আমাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন হয়ে যায়।’

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেএসকে-র মোট ১ হাজার ৫০০ কর্মী ও সদস্যের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মূল কমান্ডো। বাকিরা প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক সহায়তার দায়িত্ব পালন করেন।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিজাত বাহিনীটি বেশ কয়েকটি চরম ডানপন্থী মতাদর্শ-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে এক তদন্তে উঠে আসে, ইউনিটটির কিছু সেনাসদস্য নাৎসি স্যালুট দিয়েছেন এবং চরম ডানপন্থী গান শুনেছেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের এক তদন্তে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি গোপন চরম ডানপন্থী নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব উন্মোচিত হয়।

অভিযোগ ওঠে, ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

এরপর ২০২০ সালে কেএসকে-র এক সার্জেন্ট মেজরের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক ও নাৎসি-সম্পর্কিত স্মৃতিচিহ্ন উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের একটি অংশ সামরিক গুদাম থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আরটি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD