Logo

জেলেনস্কি ফোন করলে কথা বলবেন পুতিন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:০৬
জেলেনস্কি ফোন করলে কথা বলবেন পুতিন
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফোন করলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই ফোন ধরবেন বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ। রোববার (১ নভেম্বর) তিনি বলেন, পুতিন কখনোই আলোচনার পথ থেকে সরে যাননি। জেলেনস্কি যোগাযোগ করলে তিনি অবশ্যই সাড়া দেবেন।

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক বা ফোনালাপ হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় নরম্যান্ডি ফরম্যাটের আলোচনায় তাঁদের দেখা হয়েছিল।

কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে দুই নেতার সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছে। গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি পুতিনকে খোলা চিঠি লিখে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান। তবে শুক্রবার কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরাসরি বৈঠক এড়িয়ে ফোনালাপের প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের আলোচনার উদ্যোগ ইতিমধ্যে ফোনে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন ‘সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’। জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি।’ এর আগে পুতিন জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ নেতা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, আগে থেকে অনুমোদিত কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্যই কেবল জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পেসকভের মতে, শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপ রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয়ভাবে হওয়া উচিত। ইউরোপকে আলোচনায় যুক্ত করার প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় অন্তত প্রথম কয়েকটি ধাপ তিন পক্ষের মধ্যেই হওয়া যৌক্তিক।

তবে উশাকভের বক্তব্য, রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ইউরোপকেও যুক্ত করা উচিত। চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইউরোপের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, আলোচনায় ইউরোপকে যুক্ত করার পেছনে মস্কোর অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। পরবর্তী দফার আলোচনা কাজে লাগিয়ে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায় করতে চায় রাশিয়া। পুতিন ন্যাটোর সম্প্রসারণকেই ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে দাবি করে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পেন্টাগন পরামর্শ দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে মস্কোকে উসকে দেওয়া এড়াতে সংযত থাকতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ন্যাটো নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে—রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হতে পারে।

পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবিসহ মার্কিন কর্মকর্তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউরোপের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আপনাদের সহায়তা করছি। মার্কিনিরা আপনাদের পাশে রয়েছে। শুধু বেশি সরব হবেন না। অযথা হৈচৈ করবেন না।”

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটির বক্তব্য, মিত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন ব্যক্তিগতই থাকে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD