খামেনির চিঠি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। মস্কোয় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধের অবসান এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি চিঠিও পুতিনের হাতে তুলে দেন রেজায়ি।
বিজ্ঞাপন
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক শেষে রেজায়ি জানান, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ বন্ধে রাশিয়ার সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ইরান পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব রেজায়ি বলেন, খামেনি যত দ্রুত সম্ভব তাঁর বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। প্রায় এক মাস আগে থেকেই মস্কো সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা চলায় সফরটি পিছিয়ে যায়।
তবে খামেনির চিঠিতে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি রেজায়ি।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের সামান্যতম প্রবণতাও থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে ইরানকে আরও শক্তিশালী করে ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা’ অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
সাত শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসবে না তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা চলার মধ্যেই পুতিনের সঙ্গে রেজায়ির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন আবারও ইরানে হামলা শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য আলোচনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রেজায়ি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাতটি দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না তেহরান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘কূটনীতির বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত জানিয়েছি। তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করবে, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালি খুলব না এবং আলোচনাতেও বসব না।’
রেজায়ি আরও জানান, যুদ্ধ বন্ধে সহযোগিতা করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে পুতিন তাঁকে আবারও আশ্বস্ত করেছেন। এর আগে গত মাসে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন পুতিন।
ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাশিয়া থেকে ইরানে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান রেজায়ি। তাঁর মতে, এই পাইপলাইন ইরানের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে গ্যাস বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে রাশিয়ার জন্য।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া অক্টোবরের শেষ দিকে তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়েও পুতিনকে অবহিত করেন রেজায়ি। তিনি জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
রেজায়ি বলেন, ‘আমাদের চীনা বন্ধুদের মতো আমরাও মনে করি, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত। এ অঞ্চলের নিরাপত্তায় বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।’
সূত্র: আল-জাজিরা








