সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত আরও তিনজনকে ফাঁসিতে ঝুলালো ইরান

গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। তাঁদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগও এনেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৮ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন হাসান দিওবন্দ, হামিদ কাজেমি ও রেজা জাংগানেহ।
ইরানের বিচার বিভাগের দাবি, গত জানুয়ারিতে কারাজ শহরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছিলেন এই তিন ব্যক্তি। এ সময় তাঁরা অস্ত্র, গ্রেনেড ও মোলোটভ ককটেল ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করেন। ওই ঘটনার কারণে কারাজ শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে ইরান। সাম্প্রতিক তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এদিকে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি এসব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। তালিকায় এরপর রয়েছে সৌদি আরব। তবে ধারণা করা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় চীন সবার ওপরে। দেশটি এ-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ না করায় প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইরান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র: ফার্স নিউজ, আলজাজিরা।








