সানায় হামলার পাল্টা জবাবে সৌদিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুথিরা

ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় প্রাণহানির ঘটনার পর পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার কথা জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। এর মধ্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৮ নভেম্বর) ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি জানান, পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় সানা প্রদেশের আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। হুথিদের অভিযোগ, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলার সময়ও আরও দুই দফা বিমান হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি।
হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের ছয়টি স্থাপনা ও অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খুরাইস ও দাওয়াদমি এলাকায় সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা এবং সীমান্তবর্তী কয়েকটি সামরিক অবস্থান। এসব হামলায় সৌদি সেনাদের হতাহত হওয়ার দাবিও করেছে তারা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে ছয়টি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেলের মজুত ট্যাংক এবং সৌদি আরামকোর একটি ডিস্টিলেশন টাওয়ার লক্ষ্য করে। এ অভিযান সফল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয় খুরাইসে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায়।
তবে হুথিদের দাবি করা ছয়টি হামলার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট রিয়াদ প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে সহযোগিতা করছে সিরিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার কয়েক ডজন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন। সেখানে সৌদি ও ইয়েমেনি সেনাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তারা।
তবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দামেস্ক। ফলে সানায় হামলার পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।








