ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙতে দেখে অঝোরে কেঁদেছিলেন সোনিয়া গান্ধী

১৯৯২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। সেই ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে কেঁদেছিলেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সোনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, ওই ঘটনা দেখেই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন সোনিয়া গান্ধী।
তিনি বলেন, “বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখার সময় আমি কেঁদে দেই। এরমাধ্যমে আমি বুঝতে পারি ভারতের সামনে তার ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য দীর্ঘ লড়াই সামনে রয়েছে।”
১৯৯০-এর দশকে উত্তর প্রদেশে রামজন্মভূমি আন্দোলন ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। বাবরি মসজিদের নিচে প্রাচীন মন্দির থাকার দাবি তুলে মসজিদটি ভেঙে ফেলার আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একটি দল মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনার পেছনে বর্তমানে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সোনিয়া। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং তাঁদের সহকর্মীরা যে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা রক্ষার ক্ষেত্রে দেশটি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে ভারতে বিজেপি ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানের পেছনে কংগ্রেসেরও ভূমিকা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন এই কংগ্রেস নেতা। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যের পর তাঁকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি কংগ্রেসকে ‘হিন্দু বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি লিখেছেন, “সোনিয়া গান্ধী বাবরি মসজিদের জন্য চোখের পানি ফেলেন, সোনিয়া গান্ধী বাটলা হাউজের জন্য চোখের পানি ফেলেন। সোনিয়া গান্ধী প্রমাণ করেছেন কংগ্রেস হলো বাবরপন্থি এবং ভগবান রাম বিরোধী। সোনিয়া গান্ধীর ভোট ব্যাংক কমতেই থাকবে।”
উল্লেখ্য, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব অব্যাহত থাকে।
বিজেপির অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণ। পরবর্তী সময়ে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মিত হয় এবং ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরটির উদ্বোধন করেন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।








