মাড়ি থেকে রক্তপাত হলে যা করবেন

মাড়ি থেকে রক্তপাতকে অনেকেই সাধারণ দাঁতের সমস্যা হিসেবে উপেক্ষা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু মুখের নয়, বরং বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মাড়ি থেকে রক্তপাতের অন্যতম প্রধান কারণ জিনজিভাইটিস, যা দাঁতের গোড়ায় প্লাক জমে মাড়িতে প্রদাহ তৈরি হলে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি পেরিওডনটাইটিসে রূপ নিতে পারে, যেখানে মাড়ি সরে যাওয়া, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া এমনকি দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
আরও পড়ুন: আজকের রাশিফল : বরিয়ান যোগে কার ভাগ্যে কী
ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় রক্তপাত, মাড়ি ফুলে যাওয়া, লালচে হয়ে যাওয়া, ব্যথা এবং দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ—এসবই মাড়ির প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার না করার কারণে সমস্যা বাড়ে, তবে আরও কিছু কারণও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর মধ্যে ধূমপান, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন, বয়ঃসন্ধি বা মেনোপজ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ মাড়িকে সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
মাড়ি থেকে রক্তপাত কখনো কখনো শরীরের ভেতরের সমস্যার সংকেতও হতে পারে। ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে-এর ঘাটতি শরীরের নিরাময় ক্ষমতা কমিয়ে মাড়িকে দুর্বল করে দিতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ঘন ঘন বা অকারণ রক্তপাত রক্তজনিত রোগ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন
শুধু মাড়ি থেকে রক্তপাত নয়, মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, সাদা বা লাল দাগ, অস্বাভাবিক পিণ্ড, দাঁত নড়ে যাওয়া, অথবা চিবানো ও গিলতে সমস্যা হলে তা গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে, বিশেষ করে তামাক বা অ্যালকোহল ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করা, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার, সুষম খাবার খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসব অভ্যাস মুখের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ডায়াবেটিস রোগীরা ফলের রস কী খেতে পারবেন?
মুখের ছোট ছোট উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে দাঁত-মাড়ি যেমন ভালো থাকে, তেমনি বড় রোগও আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।








