অফিস থেকে বাসর ঘর, সহকর্মীকে বিয়ে করছেন ৪৩ শতাংশ কর্মী

বর্তমান ব্যস্ত নগরজীবনে অফিস আর শুধু কাজের জায়গা নয়, অনেকের জীবনে এটি হয়ে উঠছে সম্পর্কেরও সূতিকাগার। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থেকেই গড়ে উঠছে প্রেমের সম্পর্ক, আর সেই সম্পর্কের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বিয়েতেও গড়াচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
‘ওয়ার্কপ্লেস রোমান্স স্ট্যাটিস্টিকস’ শীর্ষক এক সমীক্ষা বলছে, ৬০ শতাংশের বেশি কর্মী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে রূপ নিয়েছে কিংবা বিয়েতে পরিণত হয়েছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতে, একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করা, প্রতিদিনের যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার কারণে সহকর্মীদের মধ্যে মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এ কারণেই কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রেমে রূপ নেয়।
বিজ্ঞাপন
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘসময় কাটানোর ফলে তাদের মধ্যে একটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বা ‘কমফর্ট জোন’ তৈরি হয়, যা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলে।
অন্যদিকে ৬১ শতাংশের মতে, কর্মব্যস্ত জীবনে অফিসের বাইরে আলাদা করে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া বা সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়াও কর্মক্ষেত্রে প্রেম বাড়ার অন্যতম কারণ।
তবে অফিসের প্রেম সবসময় ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বয়ে আনে না বলেও উঠে এসেছে সমীক্ষায়। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বীকার করেছেন, সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর সময় তারা নিজেদের আগের সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বা সম্পর্কে থেকেও নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া অফিসের প্রেম ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলে বলেও জানিয়েছেন অনেকেই। জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কাজের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব স্পষ্ট। প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে তাদের কর্মদক্ষতা বা কাজে মনোযোগ কমেছে। একইসঙ্গে অফিসে গসিপ, আলোচনা ও সহকর্মীদের কৌতূহলের বিষয়েও অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন অনেকে। প্রায় অর্ধেক কর্মী জানিয়েছেন, সম্পর্কের কারণে তারা সহকর্মীদের চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন।
এ ছাড়া ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে ঈর্ষা বা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে সমীক্ষায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আজ ইগো চেক দেওয়ার দিন
আরও একটি ব্যতিক্রমী তথ্য হলো— কর্মক্ষেত্রে প্রেমে জড়ানো অনেক যুগল সম্পর্ক ভেঙে গেলে কীভাবে একই অফিসে কাজ চালিয়ে যাবেন, তা আগেই ভেবে রাখেন।
প্রায় ৩০ শতাংশ যুগল জানিয়েছেন, তারা আগেভাগেই একটি ‘ব্রেক-আপ প্ল্যান’ তৈরি করে রাখেন, যাতে বিচ্ছেদের পর কর্মপরিবেশ অস্বস্তিকর না হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে সঠিক নীতিমালা ও স্বচ্ছতা থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়। অনেক কর্মী তাদের সম্পর্কের বিষয়টি মানবসম্পদ বিভাগকে (এইচআর) জানান না। পরে তা পক্ষপাতিত্ব বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তৈরি করতে পারে।
তাই কর্মক্ষেত্রের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে স্পষ্ট ‘রিলেশনশিপ পলিসি’ থাকা জরুরি বলে মত দিয়েছেন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।








