Logo

বন্যার দুর্যোগে পরিবারকে মানসিকভাবে শক্ত রাখার উপায়

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৮:৫৪
বন্যার দুর্যোগে পরিবারকে মানসিকভাবে শক্ত রাখার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট বন্যায় লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে, আবার অনেকেই পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু বসতবাড়ি, কৃষিজমি বা সম্পদের ক্ষতিই নয়, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভয়, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে এই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হয়। পরিবারের একজন সদস্যও যদি শান্ত ও স্থির থাকতে পারেন, তাহলে তার ইতিবাচক মনোভাব অন্যদের মধ্যেও সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগায়।

পরিস্থিতি মেনে নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করুন

বন্যার মতো দুর্যোগে অনেক বিষয়ই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। তাই যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, সেই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অতীতের ক্ষয়ক্ষতি বা ভবিষ্যতের আশঙ্কা নিয়ে বারবার ভাবার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় কাজগুলো অগ্রাধিকার দিলে মানসিক চাপ কমে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন

কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কে কী নিয়ে উদ্বিগ্ন, কার কী প্রয়োজন বা কে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন—এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে অনেক অজানা দুশ্চিন্তার সমাধান হয়ে যায়। একে অপরের পাশে থাকার অনুভূতি পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে আরও শক্ত করে তোলে।

বিজ্ঞাপন

শিশুদের আশ্বস্ত করুন

দুর্যোগের সময় শিশুরা বড়দের আচরণ থেকেই পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেয়। তাই তাদের সামনে আতঙ্ক, হতাশা বা অতিরিক্ত ভয় প্রকাশ না করাই ভালো। সহজ ভাষায় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তাদের নিরাপদ থাকার বিষয়টি বোঝাতে হবে। পাশাপাশি গল্প, ছবি আঁকা, গান, ছোটখাটো খেলাধুলা কিংবা বই পড়ার মতো কাজে শিশুদের ব্যস্ত রাখা গেলে তাদের মানসিক চাপ অনেকটাই কমে।

গুজব এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করুন

বিজ্ঞাপন

বন্যার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব তথ্য অযথা আতঙ্ক বাড়াতে পারে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তর, সরকারি সংস্থা কিংবা বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। যাচাই না করে কোনো খবর অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন।

যতটা সম্ভব দৈনন্দিন অভ্যাস বজায় রাখুন

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হলেও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ এবং সুযোগ পেলে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। ছোট ছোট এই নিয়মগুলো মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে এবং অস্থিরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব ভাগ করে নিন

সব কাজ একজনের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া ভালো। কেউ খাবারের ব্যবস্থা দেখবেন, কেউ শিশু বা প্রবীণ সদস্যদের দেখাশোনা করবেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখবেন। এতে কাজের চাপ কমে এবং সবাই নিজেকে প্রয়োজনীয় মনে করেন, যা মানসিক শক্তি বাড়ায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শারীরিক সুস্থতার দিকেও নজর দিন

বিজ্ঞাপন

মানসিক সুস্থতার সঙ্গে শারীরিক সুস্থতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম, বিশুদ্ধ পানি পান এবং যতটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে শরীরের পাশাপাশি মনও ভালো থাকে। পানিশূন্যতা, অপুষ্টি বা ঘুমের অভাব উদ্বেগ ও মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রয়োজনে সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না

যদি দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত উদ্বেগ, ভয়, ঘুমের সমস্যা বা হতাশা অনুভূত হয়, তাহলে চিকিৎসক, কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, স্বেচ্ছাসেবক কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা চাইতে সংকোচ করা উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থায়ী নয়; একসময় বন্যার পানি নেমে যায় এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসে। তবে এই সময়ে পরিবারের সদস্যরা যদি একে অপরের পাশে থাকেন, সাহস জোগান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখেন, তাহলে কঠিন পরিস্থিতিও তুলনামূলক সহজ হয়ে ওঠে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হলো পারিবারিক ঐক্য, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD