বন্যা পরিস্থিতি: মেয়েকে হাড়িতে বসিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের পথে বাবা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার মধ্যে এক বাবার অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও সন্তানের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসার একটি দৃশ্য সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। কোমরসমান বন্যার পানির মধ্যে নিজের ছোট্ট মেয়েকে একটি বড় অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ির ভেতরে বসিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের দেখা মেলে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাড়ি থেকে তাঁর শিশুকন্যা আসমাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ঘরের একটি বড় অ্যালুমিনিয়ামের হাড়িকেই অস্থায়ী ভেলার মতো ব্যবহার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চারদিকে যখন বন্যার পানি আর অনিশ্চয়তা, তখন সন্তানের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ওই বাবা। পানির স্রোত ও গভীরতার কথা বিবেচনা করে মেয়েকে কোলে নেওয়ার পরিবর্তে হাড়ির ভেতরে বসিয়ে ধীরে ধীরে নিরাপদ জায়গার দিকে এগিয়ে যান তিনি। পুরো সময় জুড়েই শিশুটি বাবার ওপর নির্ভর করে নিশ্চিন্তে বসে ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। আব্দুর রহিমের বাড়িও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ঘরে থাকা বড় অ্যালুমিনিয়ামের হাড়িটিকেই তিনি শিশুকন্যার জন্য নিরাপদ বাহনে পরিণত করেন। পানির মধ্যে বাবার হাতের ভরসায় হাড়িতে বসে থাকা ছোট্ট আসমার দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের মনে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
পরে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মানুষ সেটি শেয়ার করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, দুর্যোগের সময় একজন বাবা তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, এই দৃশ্য তারই বাস্তব উদাহরণ। কেউ কেউ এটিকে মানবিকতা, সাহস এবং পিতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
এদিকে চলমান বন্যায় রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং স্থানীয় অবকাঠামো। বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে, ফলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কঠিন বাস্তবতায় আব্দুর রহিম ও তাঁর কন্যা আসমার এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের সংগ্রামের গল্প নয়; বরং সন্তানের নিরাপত্তার জন্য একজন বাবার অকৃত্রিম ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং সাহসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।








