Logo

মনু নদীর ভয়াল রূপ, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১৫ গ্রাম

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৩৮
মনু নদীর ভয়াল রূপ, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১৫ গ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর পানি এখনও বিপদসীমার অনেক ওপরে রয়েছে। যদিও ধলই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবুও উজানের অব্যাহত ঢলের কারণে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক পরিবার গভীর রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

প্লাবিত এলাকাগুলোর বসতবাড়ি, রান্নাঘর, মাছের ঘের, কৃষিজমি এবং গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল বাঁধ দিয়ে আকস্মিকভাবে পানি প্রবেশ করায় শ্রীপুর, গোলের হাওর, ভান্ডারীগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। টানা দুই দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা সড়ক এবং ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং কনকপুর ইউনিয়নের শাহ বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার তুলে দেন।

পরে জেলা প্রশাসক রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় ভেঙে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলেও প্রশাসন জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD