Logo

মনু-ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৬:১০
মনু-ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
ছবি: প্রতিনিধি

দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক, ধসে পড়েছে একটি কালভার্ট এবং প্রবল স্রোতে আউশ ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেঁতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আপত্তির কারণে মখাবিল এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে ওই অসমাপ্ত অংশ দিয়েই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে উজিরপুর, কান্দিরপুল, একামধু, হরিপাশা, গণেশপুর ও আকুয়াসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বন্যার পানির তীব্র স্রোতে কমলগঞ্জ, রাজনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের রোপণ করা আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত না কমলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ দুটি নদীর দুটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কমলগঞ্জের মাধবপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের নুরজাহান চা বাগানের গোয়ালবাড়ি এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

টেংরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সানুর মিয়া বলেন, দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠে এখনও পানি থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। পানি নেমে গেলে বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে আসায় কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এবং মনু নদীর উজিরপুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙেছে। বিএসএফের বাধার কারণে ধলাই নদীর মখাবিলের একটি অংশে কাজ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি ও নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD